দেশের বাগানগুলোয় চা উৎপাদন বেড়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় নিলামেও পণ্যটির সরবরাহ বাড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
নিলাম প্রতিবেদন ও চা বোর্ডের মাসভিত্তিক চা বুলেটিং অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত দেশের ১৭০টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা ক্ষেত্রে উৎপাদন হয়েছে সর্বমোট ১ কোটি ২৬ লাখ ১ হাজার কেজি চা। এর মধ্যে শুধু মে মাসেই উৎপাদন হয়েছে ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার কেজি চা। গত বছরের একই সময় যা ছিল ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার কেজি।
এছাড়া চলতি বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশে সর্বমোট চা উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ১ হাজার কেজি। গত বছরের একই সময় যা ছিল ১ কোটি ১৪ লাখ ৬৮ হাজার কেজি।
চা উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় নিলামেও সরবরাহ বাড়িয়েছে বাগানগুলো। ১০ নিলামে সারা দেশ থেকে সর্বমোট ৩২ লাখ ১০ হাজার ৩৬৬ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করেছে ব্রোকার প্রতিষ্ঠানগুলো। আগের বছরের একই নিলামে যা ছিল ২৭ লাখ ৬ হাজার ২৭৭ কেজি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাজারে মূলত জুন থেকে চা উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ বছর আগাম বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ফলে মে মাস থেকেই বাড়ছে উৎপাদন। এ সময় প্রায় ৪০ লাখ টন বাড়তি চা উৎপাদন হয়েছে। কৃষিপণ্যটি উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত আছে। এমন প্রেক্ষাপটে বছর শেষে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতে পারে বলে ধারণা করছে চা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের শীর্ষস্থানীয় চা নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল বোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন দেব বর্মণ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছরের নিলামগুলোয় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি চা পাঠাচ্ছে বাগানগুলো। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে বাগানে বাড়তি চা উৎপাদন হচ্ছে। আবার চায়ের ন্যূনতম নিলামমূল্য বাড়ানোর ফলেও বাগান মালিকরা বাড়তি উৎপাদনে উৎসাহী হয়েছে।’
নিলাম প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা গেছে, চলতি বছর দেশে ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চা বোর্ড। ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২০ লাখ কেজি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা।
তবে ২০২৪ সালে ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি চা।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব ছাড়াও উৎপাদন খরচের চেয়ে নিলামে চায়ের দাম কম থাকায় গত বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি।